শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে

শিক্ষার্থীদের নতুন করে দুশ্চিন্তা ও সংশয় তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে। মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সব পাবলিক ও কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পছন্দের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের আসন নিশ্চিত করেন। করোনার মধ্যে পরীক্ষায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যার ফলে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা ও সংশয় আরও বাড়ছে। তবে এর ভেতরেও যদি ভর্তি পরীক্ষা যদি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেটা গুচ্ছ নাকি সমন্বিত- কী উপায়ে এবং কোন পদ্ধতিতে নেওয়া হবে, তাও এখনও চূড়ান্ত নয়।

একাধিক উপাচার্য জানিয়েছেন, উচ্চ মাধ্যমিক ফল প্রকাশ করা হবে আগামি ডিসেম্বরে। ফল প্রকাশের সময়ের মধ্যে তারা বৈঠকে বসেবেন এবং কী উপায়ে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করে তা চূড়ান্ত করা হবে। তারা জানান, ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির সভা রয়েছে। সেখানে অনলাইনে ক্লাস ও প্রথম বর্ষের ভর্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ডিসেম্বরে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের জন্য এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকারের গঠন করা টেকনিক্যাল কমিটি। জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হলেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা পিছিয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শীতকাল চলে যাওয়ার পর ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চ মাসে পরীক্ষাটি নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ। তবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেটি হবে অনলাইনে। এ কারণে পরীক্ষার পদ্ধতি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হতে পারে।

ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, করোনার এই সংকটে বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি। যদিও ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনলাইনে সভা করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পরিস্থিতি ভালো হলে অবশ্যই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। এর বিকল্প নেই।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার অধীনে চলে আসবে। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে চাই। এ ক্ষেত্রে তিনটি গুচ্ছ হবে। এগুলো হচ্ছে কৃষি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। প্রথম দুটির জন্য দুটি পরীক্ষা হবে। শেষেরটির জন্য বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজনেস স্টাডিজ- এ তিনটি পরীক্ষা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কোন পদ্ধতিতে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অ্যাডমিশন কমিটি, ডিনস কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেবে কিনা এবং করোনার মধ্যে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হবে কিনা- জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, এর প্রতিটি বিষয়ই ওই সব কাউন্সিল ও কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশে বর্তমানে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বুয়েট এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়ে দিয়েছে, তারা ক্যাটে আসবে না। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারি। এর দু’দিন পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিল।

infotechitbd

I am professional blogger. Always try to share knowledge or information to others throw the blog site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *