এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল এবং সব পরীক্ষার্থীই এইচএসসি পাস করবে

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ছয় মাস আগে বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থগিত হয়ে গেছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও। এরমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও এক দফা বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর করা হয়েছে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকার ছাড়াও উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এ অবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার তোড়জোড় শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ১ এপ্রিল চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও করোনার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এবার ১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য প্রায় দুই হাজার ৫০০ কেন্দ্রে প্রস্তুত করেছিল ১১টি শিক্ষা বোর্ড। তবে করোনার কারণে এখন প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ হাজার কেন্দ্র প্রয়োজন হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে এবারের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষা হবে না, সেই ঘোষণা বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে পরীক্ষার্থীর ফলাফল কী হবে সেটি ঠিক হবে তার জেএসসি ও এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।  আগামী ডিসেম্বর এই মূল্যায়নের কাজটি করা হবে। আর এ পরীক্ষায় পাস করানো হবে সকল শিক্ষার্থীকেই।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘অবশ্যই সবাই পাস করবে। তবে ফলটা কী হবে সেটা নির্ভর করছে তার জেএসসি ও এসএসসির পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।’

অভিভাবকদের মতে, একজন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পায়। সেই রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করেই সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই কলেজে ভর্তির সুযোগ মেলে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।

প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। আগের বছরগুলোতে অকৃতকার্য হওয়া এরকম আড়াই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। এদের মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এক বিষয়ে ফেল করেছিল। ৫৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী দুই বিষয়ে এবং ৫১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী তিন বা ততোধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। যারা সবাই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

যদি জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয় তাহলে কোন শিক্ষার্থী ফেল করার ভয় থাকবে না। কারণ তারা ইতোমধ্যে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

infotechitbd

I am professional blogger. Always try to share knowledge or information to others throw the blog site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *